|
সালিশি সভায় বা ফতোয়া দিয়ে অপরাধীকে দোররা মারা কিংবা কোনো সাজা দেওয়াকে বিচারবহির্ভূত শাস্তি হিসেবে বিবেচনা করে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে অবৈধ ও আইনবহির্ভূত বলে ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ ধরনের শাস্তি ঘোষণাকারীকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত অন্যান্য আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। পৃথক পাঁচটি সংগঠনের করা তিনটি রিট মামলার শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হয়। ফতোয়ার নামে যে কোনো ধরনের শাস্তি ঘোষণাকে আদালত সংবিধান ও দেশের প্রচলিত আইনবিরোধী বলে মত দেন। এ ধরনের শাস্তি যারা ঘোষণা করবেন এবং যারা এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বা সম্পৃক্ত থাকবেন তাদের বিরুদ্ধে অপরাধের সহযোগী হিসেবে একই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। ফতোয়া নিয়ে মানবাধিকার
সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্র (আসক), 'বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (বল্গাস্ট),' 'ব্র্যাক,' 'বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ' ও 'নিজেরা করি' নামের পাঁচটি সংগঠন বাদী হয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেন। ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার মাহমুদ শফিক ও অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন দোলন আবেদনকারীদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন।
২৪ মে সরকারের ওপর রুল জারি করে হাইকোর্ট জানতে চান, ইসলামী শরিয়া বা ফতোয়ার নামে বিচারবহির্ভূত শাস্তি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। ফতোয়া ও শরিয়ার নামে বিচারবহির্ভূত শাস্তি নিরুৎসাহিত করতে এ জাতীয় অপরাধের বিষয়কে কেন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে কথাও একই সঙ্গে আদালতে জানাতে বলা হয়।
২১ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর গ্রামের এক তরুণীকে ১০১টি দো?ররা মারার খবরটি বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশের পর হাইকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব শফিকসহ তিন আইনজীবী বাদী হয়ে রিট আবেদন করেন। এর ভিত্তিতেই রুলটি জারি করা হয়েছিল। এর সঙ্গে একই ধরনের আরও দুটি ঘটনা একত্রিত করে চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত গতকাল এ রায় দেন।
Source: Daily Samakal, 9 July 2010
|