ব্লাস্টের আলোচনা সভায় বক্তারা


ঢাকাকে বাঁচাতে হলে ড্যাপ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ০১-০৭-২০১০

ঢাকাকে বাঁচাতে হলে রাজধানীর জন্য করা বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান—ড্যাপ) বাস্তবায়ন করতেই হবে। কিছু লোক ব্যক্তিস্বার্থে ড্যাপের বিরোধিতা করছে। এর বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন ও গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড: বাস্তবায়ন এবং করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় গতকাল বুধবার বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এই সভার আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান নুরুল হুদা বলেন, পরিকল্পিত পরিবেশ ও বাসোপযোগী ঢাকা চাইলে ড্যাপ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত স্বার্থে এর বিরোধিতা করছে। দু-চারটা সংবাদপত্রও ড্যাপ ও রাজউকের সমালোচনা করছে। তারা ড্যাপ চায় না; রাজউককেও তুলে দিতে চাইছে। তাদের ইচ্ছা বাস্তবায়িত হলে কয়েক বছরের মধ্যে ঢাকাকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে হবে। এই শহর কংক্রিটের স্তূপে পরিণত হবে।

রাজউকের চেয়ারম্যান বলেন, যেসব সাংসদ আবাসন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাঁরা সংসদে ড্যাপের বিরোধিতা করে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দুঃখ করে বলেন, ‘এ দেশে কে কী করবে? এক সাংসদ গুলশান এলাকায় ছয়তলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে ১৬ তলা করেছেন।’ ঢাকাকে বাঁচাতে হলে গণ-আন্দোলন ও গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে বলে মত দেন তিনি।

বিশিষ্ট আইনজীবী কামাল হোসেন ঢাকাকে সুন্দর নগর হিসেবে গড়ার আন্দোলনে রাজউকের চেয়ারম্যানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ‘প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জমি দখল করছে। কারও একার পক্ষে এদের ঠেকানো কঠিন।’ তাই নাগরিক সমাজ, আইনজীবী, পরিবেশবাদীসহ সবাইকে এই আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, বিদেশে সব মানুষের স্বার্থের কথা চিন্তা করে জলাশয় ও গাছপালা রেখে ভবন করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে উল্টোটা হচ্ছে। তিনি ঢাকার মতো রাজশাহী ও চট্টগ্রাম শহরের জন্য করা ড্যাপেরও গেজেট প্রকাশের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সারা দেশের ছোট শহরের জন্যও ড্যাপ করার পরামর্শ দেন অধ্যাপক মোজাফ্ফর।


মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে শেলটেক কনসালট্যান্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমা এ শফি ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক ও এর বাইরে ইউনিয়নভিত্তিক রাজউকের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, রাজধানীকে সুন্দর করার জন্য বেশ কিছু আইন ও পরিকল্পনা আছে। কিন্তু এগুলো মানা হয় না এবং না মানার কারণে ব্যবস্থাও নেওয়া হয় না।


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, খালবিলের মাটি নরম। কিন্তু ঢাকায় সেগুলো অবাধে ভরাট করে ভবন তৈরি করা হচ্ছে। এসব ভবনে তৈরিতে প্রকৌশল ও স্থাপত্য জ্ঞানের প্রয়োগ হয়েছে কি না, কিংবা মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে কি না তা পরীক্ষার কোনো সুযোগ নেই। এ জন্যই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে।

রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আইন না মেনে ভবন নির্মাণ করলে কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। স্বার্থান্বেষীরা কারাদণ্ড তুলে দিয়ে শুধু জরিমানার বিধান রাখার পক্ষে। কারণ তাদের হাজার হাজার কোটি কালো টাকা আছে। জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যেতে চায়। কিন্তু সেটা হতে দেওয়া যায় না।’
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিচারপতি আওলাদ আলী, ব্লাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য রাবেয়া ভূঁইয়া, রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন) শেখ আবদুল মান্নান, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক মোহসীন আলী।

Source: Prothom Alo, 1 July 2010


 

BLAST, YMCA Development Center, 1/1 Pioneer Road, Kakrail, Dhaka-1000, Bangladesh
BLAST would like to thank Sara Hossain, Jahangir Alam, Arafat Hosen Khan, Amanda Sen, Rokeya Chowdhury & Kazi Ataul-al Osman for content development
Copyright © 2010, BLAST | Web Design: Siraj / Machizo, Jahangir / BLAST